নবযুগচেতনার উন্মেষে : স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব
Abstract
বাংলা ও বাঙালির জীবন ধারায় উনিশ শতক বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তখন থেকেই বাঙালি পরিচিত হয় নতুন শিক্ষা সংস্কারে ও আধুনিকতায় । নবচেতনার উন্মেষ প্রথম বাংলা থেকে শুরু হলেও ক্রমে তা সমগ্র ভারতবর্ষ তথা ভারতবাসীর কাছে নতুন ঊষার স্বর্ণদ্বার খুলে দিয়েছিল। বলা যায় যে উনিশ শতকে নবচেতনার এই ধারাকে বহন করে নিয়ে এসেছিল ইংরেজরাই। কুসংস্কারের অন্ধকূপে পতিত সে দিনের ভারতবাসী ভুলে গিয়েছিল তাদের অতীত ঐতিহ্যের মহান ইতিহাসকে। একদা যে ভারতবর্ষ শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোয় দ্যুতিময় করে তুলেছিল সমগ্র বিশ্বকে তার স্বাক্ষর বহন করে আজও বিশ্বের বুকে তার ধ্বংসাবশেষ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নালন্দা, তক্ষশীলা ও বিক্রমশীলার মতো প্রাচীন বৌদ্ধবিহারগুলি। অতীত ভারতে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান হিসেবে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত হয়েছিল এগুলো। যেখানে একসময় ভারত ছাড়াও তিব্বত, চিন, কোরিয়া ও মধ্য এশিয়া থেকে ছাত্র ও পণ্ডিতদের সমাগম হয়েছিল। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থাদি ছাড়াও বেদ, ন্যায়শাস্ত্র, সংস্কৃত ব্যাকরণ, চিকিৎসাশাস্ত্র ও সংখ্যাদর্শন প্রভৃতিতে পাঠদান করা হত।
পরবর্তীতে বিদেশী আক্রমণ, রাজনৈতিক, সামাজিক তথা ধর্মীয় বিভিন্ন কারণ বশতঃ শিকড়চ্যুত জাতি তাদের শিক্ষার মূলস্রোত থেকে সরে আসে শতযোজন দূরে। যার ফলস্বরূপ পরোজীবি, চরিত্রবলহীন, অসহিষ্ণু এক জাতিতে পরিণত হয় তারা। জাতির এই দুর্বলতম মুহূর্তে প্রাচীন সনাতন অবস্থানের ভিত্তিভূমিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল অবধারিতভাবে। এই প্রেক্ষিতে স্বামী স্বরূপানন্দের চিন্তা চেতনা এক নবযুগের বার্তাকে বহন করে আনে, চলিষ্ণু জাতির প্রাণ প্রতিষ্ঠায়।
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2023 Siddhanta's International Journal of Advanced Research in Arts & Humanities

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.