বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভূমিরাজস্বনীতিঃকৃষক বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর এর প্রভাব।

Authors

  • Santu Ghorai Author

Abstract

                ১৭৬৫ খ্রীঃ  ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী বা রাজস্ব আদায়ের অধিকার লাভ করিলে ভূমি – সংক্রান্ত সমস্যার উদ্ভব হয়। বাংলা তথা ভারতের ভূমি - সংক্রান্ত বিষয়ে কোম্পানীর কর্মচারীদের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। এইকারণে লর্ড ক্লাইভ মোগল আমলের রাজস্ব ব্যবস্থা অপরিবর্তিত রেখেছিলেন। কিন্তু ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হয়ে রাজস্ব – সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে ব্রতী হন। পরবর্তীতে কর্নওয়ালিশ বড়লাট হয়ে ভারতে এসে এদেশের ভূমিব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তৃত অনুসন্ধান ও আলোচনা চালান। কর্নওয়ালিস গভর্নর জেনারেলের কার্যভার গ্রহণ করার পর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক সকল দিক থেকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রয়োজনীয়তা বুঝে তা কার্যকর করেন। ব্রিটিশরা জমিদারদের মাধ্যমে জোরপূর্বক ভাবে ভূমি রাজস্ব আদায় করতে থাকে। এই ব্যবস্থার ফলে প্রজারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন জমিদার পূর্বতন জমিদারদের অপেক্ষায় কোনমতেই অধিক উদার ছিলেন না। জমির উপর প্রজাদের  স্বত্ব সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় বহুক্ষেত্রে জমিদাররা কারণে - অকারণে প্রজাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে দ্বিধা বোধ করতেন না। জমিতে প্রজাদের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় স্বভাবতঃই জমির উন্নয়নের কোন চেষ্টা  তারা করতনা। জমিবন্দোবস্ত ও খাজনা নির্ধারণ করার অধিকার জমিদারদের দেওয়ায় বহুক্ষেত্রে জমিদাররা উচ্চ হারে খাজনা ও নানাভাবে অতিরিক্ত কর আদায় করতেন। ফলে প্রজাদের দুর্দশার অন্ত ছিল না। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন যে জমিদাররা প্রজাদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে তাদের রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখবে। কিন্তু পরবর্তীকালে জমিদাররা গ্রাম ত্যাগ করে শহরে বসবাস আরম্ভকরলে নায়েব গোমস্তাদের হাতে প্রজাদের দুর্দশা চরমে  পৌঁছায়। উপরন্তু জমিদারদের অনুপস্থিতির ফলে গ্রামের সমৃদ্ধি উত্তরোত্তর হ্রাস পায়। অর্থাৎ বাংলাতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দ্রুত বিস্তার, ভূমি রাজস্ব নীতি ও অত্যাচারী শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন প্রভৃতি ভারতবাসীর চিরাচরিত জীবনধারার উপর প্রবল প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার বিভিন্ন উপজাতি শ্রেণির মধ্যে ক্ষোভ – বিক্ষোভ প্রকাশ পায়। সকলের মধ্যেই ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব দানা বেঁধে ওঠে এবং খন্ড - খন্ড ভাবে আঞ্চলিক  বিদ্রোহের সূচনা হয়। এই বিদ্রোহগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল সন্ন্যাসী-বিদ্রোহ (১৭৭২ খ্রীঃ),  চুয়াড় বিদ্রোহ (১৭৯৯খ্রিস্টাব্দ), সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫ - ৫৭ খ্রীঃ)। ইংরেজ শাসনের অবর্ণনীয় অত্যাচার ও দমন নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিল এই সমস্ত উপজাতি গুলি।   অনেক পণ্ডিত এই আন্দোলন গুলিকে ইংরেজ - বিরোধী ভারতের স্বাধীনতা - আন্দোলন বলে অভিহিত করেছেন।

Author Biography

  • Santu Ghorai

    Ph.D Scholar (History), Mansarovar Global University, Sehore(M.P), India

Downloads

Published

15-08-2024

How to Cite

বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ভূমিরাজস্বনীতিঃকৃষক বিদ্রোহ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের উপর এর প্রভাব।. (2024). Siddhanta’s International Journal of Advanced Research in Arts & Humanities, 101-109. https://sijarah.com/index.php/sijarah/article/view/156