জীবন্মুক্তি
Keywords:
জীবন্মুক্তিAbstract
ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায়ের মধ্যে চার্বাক সম্প্রদায় বাদ দিয়ে প্রায় সমস্ত দার্শনিক সম্প্রদায়ই মোক্ষ বা মুক্তিকে পরম পুরুষার্থ রূপে স্বীকার করেছেন। মুক্তি বা মোক্ষ শব্দের বহুবিধ পর্যায়বাচী শব্দ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন মোক্ষবাদী দার্শনিকগণ জীবনের এই পরমাদর্শকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করেছেন – কৈবল্য, নির্বাণ, অপবর্গ, শ্রেয়, নিঃশ্রেয়স, অমৃত, মোক্ষ, মুক্তি। মুক্তি বলতে বোঝায় জীবের সংসার চক্র বা ভববন্ধন থেকে আত্মার মুক্তি। জীবের এই জন্ম-মৃত্যুর জীবনচক্র অনাদিকাল থেকে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে চলেছে। সাধনার দ্বারা জীবের এই সংসারের চক্রাকার প্রবাহ বা আবর্তনকে নিরোধ করাই হল মুক্তি বা মোক্ষ।
জীব বা আত্মার বন্ধন ও মুক্তির আলোচনা ভারতীয় চিন্তাধারায় প্রধান ও অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে। মোক্ষবাদী দার্শনিকদের মতে মোক্ষ হল জীবের বন্ধন বা দুঃখ থেকে আত্যন্তিক নিবৃত্তি। তবে মোক্ষের স্বরূপ নিয়ে ভারতীয় দার্শনিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু দুঃখ থেকে আত্যন্তিক নিবৃত্তি ও মোক্ষলাভই যে জীবের পরম লক্ষ্য সেই বিষয়ে প্রায় সকল দার্শনিকই একমত। ভারতীয় দর্শন শাস্ত্রের আলোচনাও মূলতঃ জীবের বন্ধন ও মুক্তিকে নিয়েই। মোক্ষের সন্ধানে ভারতীয় মনীষীগণ শ্রুতির সময়কাল থেকেই ব্রতী হয়েছেন। সূত্র-ভাষ্য বিচার বিশ্লেষণের দ্বারা, কেউ কেউ আবার শ্রুতি প্রামাণ্যের দ্বারা সেই সত্যের স্বরূপে উপনীত হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2024 Siddhanta's International Journal of Advanced Research in Arts & Humanities

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.