সাংখ্য দর্শনে সৎকার্যবাদ
Keywords:
সাংখ্য দর্শনে সৎকার্যবাদAbstract
দ্বৈতবাদী সাংখ্যদর্শনের দুটি মূল তত্ত্ব-পুরুষ ও প্রকৃতি। প্রকৃতি হল জড় এবং পুরুষ হল চেতন সত্ত্বা। এই পরিদৃশ্যমান জগৎ কার্য-কারণের সতত প্রবাহ। এর মূল কারণ থাকা আবশ্যক। সাংখ্য দার্শনিকরা পুরুষকে কোনো কার্যের কারণ হিসেবে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে নিত্য চৈতন্য পুরুষ কার্যও নয় কারণও নয়, অনুভয়াত্মক অর্থাৎ “ন প্রকৃতিঃ ন বিকৃতিঃ”[1]। কার্যকারণ শৃঙ্খলায় মূল কারণ হিসাবে সাংখ্য দার্শনিকরা প্রকৃতিকে স্বীকার করেছেন-“মূলে মূলাভাবাদমূলং মূলম্”[i]। সাংখ্যদর্শনে মোট 25টি তত্ত্ব স্বীকার করা হয়েছে। সাংখ্যমতে পুরুষের সান্নিধ্যে প্রকৃতি এই জগৎ সৃষ্টি করে। এই সৃষ্টি প্রক্রিয়ায় প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন প্রথম তত্ত্ব হল মহৎ বা বুদ্ধি তত্ত্ব। মহৎ থেকে উৎপন্ন হয় অহংকার তত্ত্ব। অহংকার তত্ত্ব থেকে উৎপন্ন হয় অন্তরিন্দ্রিয় মন, পঞ্চজ্ঞানেন্দ্রিয় (চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক), পঞ্চকর্মেন্দ্রিয় (বাক্, পাণি, পাদ, পায়ু, উপস্থ), এবং পঞ্চতন্মাত্র (শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ)। এই পঞ্চতন্মাত্র থেকে উৎপন্ন হয় পঞ্চমহাভূত (ক্ষিতি, অপ্, তেজ, মরুৎ, ব্যোম্)। সুতরাং পুরুষ ও প্রকৃতি বাদে এই 23টি তত্ত্ব মূল প্রকৃতি থেকে সৃষ্টি হয়।
[1] “মূল প্রকৃতিরবিকৃতির্মহদাদ্যাঃ প্রকৃতিবিকৃতয়ঃ সপ্ত।
ষোড়শকস্তু বিকারো ন প্রকৃতির্ন বিকৃতিঃ পুরুষঃ”।। সাংখ্যকারিকা-৩ নং শ্লোক
[i] সাংখ্যসূত্র-১/৬৭, সাংখ্যদর্শন, মহর্ষি কপিল, উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় কৃত অনুবাদ, কলকাতা: বসুমতী সাহিত্য মন্দির, ২০২১, পৃ.-২৫
Published
Issue
Section
License
Copyright (c) 2025 Siddhanta's International Journal of Advanced Research in Arts & Humanities

This work is licensed under a Creative Commons Attribution-NonCommercial-NoDerivatives 4.0 International License.